আশমিন
ইট পাটকেল(ছোট গল্প)
সানজিদা বিনতে সফি
রুমের মাঝেই অস্থির ভাবে পায়চারি করছে আশমিন। আমজাদ চৌধুরী ও মুখ ফুলিয়ে বসে। সে মোটেও ইচ্ছে করে বসে নেই। আশমিন তাকে জোর করে বসিয়ে রেখেছে তাও বলা যাচ্ছে না। সে বাধ্য হয়ে বসে আছে। কামিনী চৌধুরী তাকে রুমে জায়গা দেয় নি। গেস্ট রুমে মেহমান থাকায় সে আশমিনের রুমে আসন গেড়ে বসেছে।
-- তুমি আংকেলের সাথে কথা বলে বিয়ের ডেট কাল সকালে ফাইনাল করে ফেলো। ফজরের পর পর আমি কবুল বলব বলে ঠিক করেছি।
আমজাদ চৌধুরী বিরক্ত হলেন। গলায় যথেষ্ট অসন্তোষ আনার চেষ্টা করে বললেন,
-- বাজে বকা বন্ধ কর। এভাবে বিয়ে হয় কখনো শুনেছো? এক রাতেই বিয়ের জন্য পাগল হলে কেন? আশ্চর্য!
আশমিন মুখ কুচকে ফেললো। নিজের দুনিয়াতে আসা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হল তার। এমন বাবার ঘরে জন্মেছে বলে নিজেকে কয়েকবার গালি দিতেও ভুলল না।
-- আজ প্রমাণ হলো আমি তোমার ছেলে না। আমার মতো এমন হ্যান্ডসাম চার্মিং ছেলে কিছুতেই তোমার মতো রসকষহীন কাঠখোট্টা মানুষের হতেই পারে না।আমি ব্যাগ গোছাচ্ছি আমাকে আমার আসল বাবার কাছে দিয়ে এসো। সে নিশ্চয়ই আমার বিয়ে করার প্রয়োজনীয়তা গভীর ভাবে অনুভব করবে।
আমজাদ চৌধুরী অবাক হয়ে গেলো। এখানে বাবা না হওয়ার কি হলো সেটাই তার মাথায় আসছে না। আমজাদ চৌধুরীর হতভম্ব হওয়া মুখকে আশমিন পাত্তা দিলো না। সে ভালো পাঞ্জাবি খোজায় ব্যাস্ত। সকাল সকাল এসব খুজে সময় নষ্ট করা যাবে না। আহ! তার বউ টা নিশ্চয়ই এখন তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে। স্বপ্নে সে নিশ্চয়ই বউয়ের সাথে ভালো ছেলে হয়ে থাকে নি। আশমিন চিন্তিত হয়ে গেলো। মনে মনে দোয়া করল যাতে আজকের মতো স্বপ্নে কোন অসভ্যতা না করে৷ দেখা গেল স্বপ্ন দেখেই বউ বেকে গেছে। তখন আবার আরেক ঝামেলা।
- এসব পাগলামি বন্ধ করো। হুট করেই বিয়ে হয়ে যায় নাকি? আয়োজনের একটা ব্যাপার স্যাপার আছে তো নাকি। কত মানুষ আসবে তোমার বিয়েতে। এভাবে বিয়ে করলে মিডিয়া তিল কে তাল বানাবে। ফেস নষ্ট হবে। আর রাফসান ও রাজি হবে না। একটা মাত্র মেয়ে তার। এভাবে বিয়ে দিবে কেন? মেয়ের মতামতের ও তো একটা ব্যাপার আছে। আমি কাল রাফসানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো। এখন ঘুমাও। সকাল সকাল বের হতে হবে।
আশমিন হাতে দুটো সাদা পাঞ্জাবি ধরে আমজাদ চৌধুরী কে উদ্দেশ্য করে চিন্তিত গলায় বলল,
-- কোনটা বেশি ভালো হবে বলো তো?
-- দুটো ই তো এক। (কপাল কুচকে)
আশমিন বিরক্ত হল। সাথে কামিনী চৌধুরীর জন্য কিছুটা মায়া ও হলো। এমন একটা লোক কে বিয়ে করে তার মা নিশ্চয়ই সুখে নেই।
-- আশমিন, আমার কথা বুঝেছো তুমি?
-- অহ হ্যা, তুমি রাফসান আংকেল কে কল করো। আমি কথা বলছি।
আমজাদ চৌধুরী চিৎকার করেই "না" বলে উঠলো। আশমিন ড্রেসিং টেবিল থেকে চোখ ঘুড়িয়ে তার দিকে তাকাতেই আমতা আমতা করে বলল,
-- না মানে এতো রাতে কল করার কি দরকার। কাল সকালে কোরো। রাফসান এখন ঘুমাচ্ছে। শুধু শুধু,,,
আমজাদ চৌধুরীর কথা শেষ হওয়ার আগেই আশমিন নূরের বাবা কে কল দিয়ে ফেলেছে। আমজাদ চৌধুরীর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মাথায় তার ইজ্জত নিয়ে এই ছেলে ছিনিমিনি খেলবে তার বোঝা শেষ।
র
কয়েকবার রিং হতেই ফোন তুলেছেন রাফসান শিকদার। কন্ঠে ঘুম আর আশ্চর্য ভাব ঢেলেই সে "হ্যালো" বললো।
-- আসসালামু আলাইকুম আংকেল।আমি আপনার জামাই বলছি।
রাফসান শিকদার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। কান থেকে ফোন নামিয়ে নাম্বারে আরেকবার চোখ বুলালো। সেখানে আশমিনের নাম জ্বলজ্বল করছে। সে ভাবলো ঘুমের ঘোরে হয়তো ভুল শুনেছে। তাই নিজেই বলল,
-- আশমিন, এতো রাতে? কোন সমস্যা হয় নি তো বাবা?
আশমিন নিজেকে যথেষ্ট ভদ্র সাজানোর চেষ্টা করলো। কোমল গলায় বলল,
-- হ্যা আংকেল। একটা সমস্যা হয়েছে। আপনিই পারেন এর সমাধান করতে।
রাফসান শিকদার তড়িঘড়ি করে উঠে বসলেন। চিন্তিত গলায় বললেন,
-- হ্যা বাবা বলো। আমি কি আসবো? কোন ঝামেলা হয়েছে?
-- ব্যাপার টা হচ্ছে, আমি বিয়ে করতে চাইছি সকাল সকাল। বিষয় টা আব্বু বুঝতে পারছে না। এখন ছেলে হয়ে তো আর তাকে বলতে পারি না আমার আপনার মেয়েকে ছাড়া ঘুম আসছে না। আপনার নাতি নাতনিরা পৃথিবীতে আসার জন্য লাফালাফি করছে। আপনার মেয়ের ও নিশ্চয়ই আমাকে ছাড়া থাকতে কষ্ট হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কষ্ট কিভাবে মেনে নেই বলুন তো! তাই ফজরের সময় পরিবার নিয়ে চৌধুরী বাড়িতে চলে আসবেন। আমি খুব লাজুক মানুষ, তাই বলতে পারলাম না আপনার মেয়ের জন্য আমার কতটা প্রেম প্রেম পাচ্ছে। নাহলে আপনাকে সবটা খুলে বলতাম। রাখছি আংকেল। আপনি এখন একটু ঘুমিয়ে নিন। সকালে অনেক কাজ। মেয়ের বাবা বলে কথা।
রাফসান শিকদারের ঠোঁট দুটো আপনা আপনি আলাদা হয়ে গেছে। হার্টবিট ও বেড়ে গেছে অনেকটা। কান ঝা ঝা করছে। এসব কি বললো আশমিন! আল্লাহ!
চলবে,,
